উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর
ইলেক্ট্রন অণুবিক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়, উদ্ভিদ কোষের কোষ প্রাচীর
ক) ধাত্র (Matrix) খ) তন্তু (Fibril) এ দুটি মুখ্য উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।
ক) ধাত্র (Matrix): প্রধানত জলীয় উপাদান এবং পেকটিন, লিগনিন,হেমিসেলুলোজ ইত্যাদি নিয়ে গঠিত।
তন্তুবিহীন অংশ নিয়ে গঠিত কোষপ্রাচীরের অংশকে ধাত্র বলে।
খ) ফাইব্রিল(Fibril): কোষপ্রাচীরের ধাত্রের মদ্যে অন্তর্নিহিত ও সেলুলোজ নামক পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি যে দীর্ঘাকার উপাদান লম্বালম্বি ও সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে তাদেরকে তন্তু বা ফাইব্রিল বলে।
ফাইব্রিল দুই ধরনের যথা:
১. মাইক্রোফাইব্রিল ২. ম্যাক্রোফাইব্রিল।
এগুলো বিটা-ডি গ্লুকোজ অনু দিয়ে গঠিত।
১-৩০০০ বিটা ডি গ্লুকোজ মিলে তৈরি হয় সেলুলোজ শৃঙ্খল।
১০০ টি সেলুলোজ শৃঙ্খল মিলে তৈরি হয় একটি মাইসেলি।
এরুপ ২০০ টি মাইসেলি মিলে তৈরি হয় মাইক্রোফাইব্রিল।
৩০০ টি মাইক্রোফাইব্রিল যুক্ত হয়ে গঠন করে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল।
ম্যাক্রোফাইব্রিল গুলো ঘনসন্নিবিশষ্ট হয় গঠন করে একটি ফাইব্রিল বা তন্তু।
কোষপ্রাচীরের কাজ:
১. কোষপ্রাচীর প্রোটোপ্লাজমকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২. কোষকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি দান করে।
৩. কোষকে যান্ত্রিক শক্তি যোগায়।
৪. প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে আন্ত:কোষীয় সংযোগ রক্ষায় সাহায্য করে।
প্লাজমোডেসমাটা:
কোষপ্রাচীরের জায়গায় জায়গায় অতি সূক্ষ্ম কূপ থাকে। এদর মধ্য দিয়ে সূক্ষ্ম তন্তুর মতো সাইটোপ্লাজমীয় অংশ পাশাপাশি বিন্যস্ত কোষের মধ্যে পারষ্পরিক সংযোগ বজায় রাখে।
কোষপ্রাচীরের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত কোষান্তর সংযোগ রক্ষাকারী এই সূক্ষ্ম সাইটোপ্লাজমীয় অংশ গুলোকে প্লাজমোডেসমাটা বলে।
কোষপ্রাচীরের স্থুলীভবন
প্রাথমিক কোষপ্রাচীরের ভিতরের দিকে গৌণ কোষপ্রাচীর সৃষ্টির সময় গৌণ কোষপ্রাচীরের গাঠনিক পদার্থ গুলো অসম ও অনিয়মিত ভাবে জমা হলে কোষ প্রাচীরের বিভিন্ন ধরনের অলঙ্করনের সৃষ্টি হয়,একই কোষপ্রাচীরের স্থুলীভবন বলে।
কোষপ্রাচীরে বিভিন্ন ধরনের স্থুলীভবন দেখা যায়:
১) বলয়াকার
২) সর্পিলাকার
৩) সোপানাকার
৪) জালিকাকার
৫) কূপাঙ্কিক
১) বলয়াকার:-
গৌণ কোষপ্রাচীরের উপাদানগুলো প্রাইমারী কোষপ্রাচীরের ভেতরের অংশে রিং আকারে জমা হলে তাকে বলায়াকার স্থুলিকরণ বলে।
জাইলেম টিস্যুর ট্রাকিয়ামে এ ধরনের অলঙ্করণ দেখা যায়।
২) সর্পিলাকার:-
গৌণ কোষপ্রাচীরের উপাদানগুলো সর্পিল ফিতা আকারে অর্থাত প্যাচাঁনো সিড়ির মতো প্রাথমিক কোষপ্রাচীরের ভেতরের দিকে জমা হয়।
৩) সোপানাকার:-
গৌণ কোষপ্রাচীরের উপাদানগুলো প্রাইমারী কোষপ্রাচীরের ভেতরের দিকে অনেসকটা সিড়িঁর ধাপের
আকারে বিন্যস্ত হয়।
৪) জালিকাকার:-
গৌণ কোষপ্রাচীরের উপাদানগুলো প্রাইমারী কোষপ্রাচীরের ভেতরের দিকে অনিয়মিতভাবে জমা হয়ে
জালিকার মতো অলঙ্করনের সৃষ্টি করে।
৫) কূপাঙ্কিক:-
গৌণ কোষপ্রাচীরের উপাদানগুলো প্রাইমারী কোষপ্রাচীরের ভেতরের দিকে এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যাতে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটা ছোট ছোট অঞ্চল ছাড়া বাকী অংশগুলো সমানভাবে স্থুল হয়।
No comments
New comments are not allowed.